🚀 এইচএসসি রসায়ন ১ম পত্র | ২য় অধ্যায় : গুণগত রসায়ন – বিগত বছরের সেরা অনুধাবনমূলক বোর্ড প্রশ্ন ও উত্তর

গুণগত রসায়ন অনুধাবনমূলক প্রশ্নের উত্তর - এইচএসসি রসায়ন ১ম পত্র ২য় অধ্যায় বোর্ড প্রশ্ন ও সমাধান - qChem+

গুণগত রসায়ন অনুধাবনমূলক প্রশ্নের উত্তর

HSC Chemistry 1st Paper Chapter 2: Top Board Exam Comprehension Questions (অনুধাবনমূলক প্রশ্ন) & Answers | qChem+

এইচএসসি (HSC) পরীক্ষার্থীদের জন্য qChem+-এ স্বাগতম! রসায়ন ১ম পত্রের ২য় অধ্যায়: গুণগত রসায়ন (Qualitative Chemistry) থেকে সৃজনশীল প্রশ্নের ‘খ’ নম্বর অনুধাবনমূলক প্রশ্ন (২ নম্বরের প্রশ্ন) প্রায়শই নির্দিষ্ট কিছু গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে আসে।

পরীক্ষায় পুরো ২ নম্বর পেতে হলে সঠিক বৈজ্ঞানিক যুক্তি, ইলেকট্রন বিন্যাস, কোয়ান্টাম সংখ্যা বা বিক্রিয়াসহ উত্তর উপস্থাপন করা প্রয়োজন। নিচে বিগত ২০১৫ থেকে ২০২৬ সালের সকল বোর্ডের ৫৩টি সেরা অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও তাদের টু-দ্য-পয়েন্ট নির্ভুল উত্তর সাজিয়ে উপস্থাপন করা হলো।

বোর্ড পরীক্ষায় আসা এই প্রশ্নগুলোর উত্তরছাড়া শুধুমাত্র প্রশ্নগুলো একসাথে পেতে নিচের পোস্টটি দেখোঃ

🚀 এইচএসসি রসায়ন ১ম পত্র | ২য় অধ্যায় : গুণগত রসায়ন – বিগত বছরের সেরা অনুধাবনমূলক বোর্ড প্রশ্ন ব্যাংক

📌 ১. কোয়ান্টাম সংখ্যা, বিভিন্ন উপস্তর ও ইলেকট্রন ধারণ ক্ষমতা

১. 2d-অরবিটাল সম্ভব নয় কেন?

[মা(অ). বো. ২৬; ম. বো., কু. বো. ২২; ম. বো., রা. বো. ২১; য. বো. ১৯; কু. বো. ১৭; ব. বো. ১৬; কু. বো. ১৫]

উত্তর: 2d অরবিটালের ক্ষেত্রে প্রধান কোয়ান্টাম সংখ্যা, n = 2। আমরা জানি, সহকারী কোয়ান্টাম সংখ্যা l-এর মান 0 হতে (n−1) পর্যন্ত হয়। সুতরাং n = 2 হলে, l = 0, 1 (s ও p উপস্তর)। l = 2 (d উপস্তর) হওয়া সম্ভব নয়। তাই 2d অরবিটাল সম্ভব নয়।

২. 3f অরবিটাল সম্ভব নয় কেন?

[চ. বো. ২২; ঢা. বো., ব. বো. ২১; চ. বো. ১৯]

উত্তর: 3f অরবিটালের ক্ষেত্রে প্রধান কোয়ান্টাম সংখ্যা n = 3। সহকারী কোয়ান্টাম সংখ্যা l-এর সম্ভাব্য মান 0, 1, 2 (s, p, d উপস্তর)। f উপস্তরের জন্য l = 3 প্রয়োজন। কিন্তু n = 3 হলে l-এর মান 3 হতে পারে না। ফলে 3f অরবিটাল গঠন সম্ভব নয়।

৩. Fe²⁺ ও Co³⁺ পরস্পরের আইসোইলেকট্রনিক— বর্ণনা করো।

[দি. বো. ১৯]

উত্তর: যেসব পরমাণু বা আয়নের ইলেকট্রন সংখ্যা সমান, তাদের আইসোইলেকট্রনিক বলে।

  • Fe (পারমাণবিক সংখ্যা 26) এর Fe²⁺ আয়নে মোট ইলেকট্রন সংখ্যা = 26 − 2 = 24 টি।
  • Co (পারমাণবিক সংখ্যা 27) এর Co³⁺ আয়নে মোট ইলেকট্রন সংখ্যা = 27 − 3 = 24 টি। যেহেতু Fe²⁺ এবং Co³⁺ উভয় আয়নেরই ইলেকট্রন সংখ্যা 24, তাই তারা পরস্পরের আইসোইলেকট্রনিক।
৪. f-উপশক্তিস্তরে ৭টি অরবিটাল থাকে— ব্যাখ্যা করো।

[ম. বো., কু. বো. ২৫]

উত্তর: f-উপশক্তিস্তরের জন্য সহকারী কোয়ান্টাম সংখ্যা l = 3। আমরা জানি, ম্যাগনেটিক কোয়ান্টাম সংখ্যা m-এর মান −l হতে +l পর্যন্ত মোট (2l+1) টি হয়। অতএব, l = 3 হলে m = −3, −2, −1, 0, +1, +2, +3 (মোট 7টি মান)। m-এর প্রতিটি মান একেকটি অরবিটাল নির্দেশ করে। তাই f-উপশক্তিস্তরে 7টি অরবিটাল থাকে।

📌 ২. আউফবাউ নীতি, পাউলির বর্জন নীতি ও হুন্ডের নীতি

৫. আউফবাউ নীতি ব্যাখ্যা করো।

[য. বো. ২১; কু. বো. ১৯]

উত্তর: আউফবাউ (Aufbau) নীতি অনুসারে, পরমাণুতে ইলেকট্রনসমূহ প্রথমে সর্বনিম্ন শক্তির অরবিটালে প্রবেশ করে এবং তা পূর্ণ করার পর ক্রমান্বয়ে উচ্চ শক্তির অরবিটালে গমন করে। অরবিটালের শক্তির ক্রম নির্ধারিত হয় (n + l) এর মান দ্বারা।

৬. 3d ও 4p অরবিটালের মধ্যে কোনটিতে ইলেকট্রন আগে প্রবেশ করে?

[ঢা. বো. ১৬]

উত্তর: 3d অরবিটালের জন্য (n + l) = 3 + 2 = 5। 4p অরবিটালের জন্য (n + l) = 4 + 1 = 5। উভয়ের (n + l) মান সমান হলে, যার প্রধান কোয়ান্টাম সংখ্যা n-এর মান কম তার শক্তি কম হয়। যেহেতু 3d এর n = 3 এবং 4p এর n = 4, তাই 3d-এর শক্তি কম এবং ইলেকট্রন আগে 3d অরবিটালে প্রবেশ করবে।

৭. 4d ও 4f এর কোনটিতে ইলেকট্রন আগে প্রবেশ করে ও কেন?

[কু. বো. ২১]

উত্তর: 4d অরবিটালের জন্য (n + l) = 4 + 2 = 6। 4f অরবিটালের জন্য (n + l) = 4 + 3 = 7। আউফবাউ নীতি অনুযায়ী, কম (n + l) মানবিশিষ্ট অরবিটালের শক্তি কম। তাই 4d-এর শক্তি 4f অপেক্ষা কম হওয়ায় ইলেকট্রন আগে 4d অরবিটালে প্রবেশ করে।

৮. K এর ১৯তম ইলেকট্রনটি 3d অরবিটালে না গিয়ে 4s অরবিটালে যায় কেন?

[ঢা., রা., দি., সি., য. বো. ১৮; রা. বো. ১৫]

উত্তর: পটাশিয়াম K(19)-এর 19তম ইলেকট্রনের ক্ষেত্রে 3d ও 4s অরবিটালের শক্তি তুলনা করা হয়:

  • 3d-এর জন্য (n + l) = 3 + 2 = 5
  • 4s-এর জন্য (n + l) = 4 + 0 = 4 যেহেতু 4s অরবিটালের শক্তি 3d অপেক্ষা কম, তাই আউফবাউ নীতি অনুসারে 19তম ইলেকট্রনটি আগে কম শক্তির 4s অরবিটালে যায়।
৯. Rb এর ৩৭তম ইলেকট্রনটি 4d অরবিটালে না গিয়ে 5s অরবিটালে যায় কেন?

[দি. বো. ২১]

উত্তর: রুবিডিয়াম Rb(37)-এর 37তম ইলেকট্রনের ক্ষেত্রে:

  • 4d অরবিটালের শক্তি: (n + l) = 4 + 2 = 6
  • 5s অরবিটালের শক্তি: (n + l) = 5 + 0 = 5 5s অরবিটালের (n + l) মান কম হওয়ায় এর শক্তি 4d অপেক্ষা কম। আউফবাউ নীতি অনুযায়ী ইলেকট্রন আগে কম শক্তির 5s অরবিটালে প্রবেশ করে।
১০. পাউলির বর্জন নীতি ব্যাখ্যা করো।

[দি. বো. ২২; ঢা., রা., দি., সি., য. বো. ১৮]

উত্তর: পাউলির বর্জন নীতি অনুসারে, “একটি পরমাণুর যেকোনো দুটি ইলেকট্রনের চারটি কোয়ান্টাম সংখ্যার মান (n, l, m, s) কখনই একই হতে পারে না।” যদি দুটি ইলেকট্রনের প্রথম তিনটি কোয়ান্টাম সংখ্যা (n, l, m) একই হয়, তবে চতুর্থ কোয়ান্টাম সংখ্যা স্পিন (s) অবশ্যই বিপরীতমুখী (+½ ও −½) হবে।

১১. অর্ধপূর্ণ ‘p’ অরবিটাল অধিক স্থিতিশীল কেন?

[চ. বো. ২১]

উত্তর: p-উপশক্তিস্তরে তিনটি অরবিটাল (pₓ, pᵧ, pz) থাকে। হুন্ডের নীতি অনুসারে অর্ধপূর্ণ অবস্থায় (p³) তিনটি অরবিটালে একটি করে একমুখী স্পিনের ইলেকট্রন অবস্থান করে। এর ফলে ইলেকট্রনগুলোর মধ্যে প্রতিসাম্যতা (Symmetry) এবং সর্বোচ্চ বিনিময় শক্তি (Exchange Energy) অর্জিত হয়, যা পরমাণুকে উচ্চ স্থিতিশীলতা প্রদান করে।

১২. “p উপশক্তিস্তরে সর্বোচ্চ ৬টি ইলেকট্রন থাকতে পারে”— পাউলির বর্জন নীতি অনুসারে ব্যাখ্যা করো।

[সি. বো. ১৯]

উত্তর: p-উপশক্তিস্তরে 3টি অরবিটাল থাকে (l = 1, তাই m = −1, 0, +1)। পাউলির বর্জন নীতি অনুসারে প্রতিটি অরবিটালে বিপরীত স্পিনের সর্বোচ্চ 2টি ইলেকট্রন থাকতে পারে। অতএব, 3টি অরবিটালে মোট সর্বোচ্চ ইলেকট্রন সংখ্যা = 3 × 2 = 6 টি।

১৩. He এর ইলেকট্রন বিন্যাস পাউলির বর্জননীতি মেনে চলে— ব্যাখ্যা করো.

উত্তর: হিলিয়াম He(2)-এর বিন্যাস 1s²।

  • ১ম ইলেকট্রন: n = 1, l = 0, m = 0, s = +½
  • ২য় ইলেকট্রন: n = 1, l = 0, m = 0, s = −½ দেখা যাচ্ছে, প্রথম তিনটি কোয়ান্টাম মান একই হলেও স্পিন কোয়ান্টাম সংখ্যা ভিন্ন। তাই এটি পাউলির বর্জন নীতি মেনে চলে।
১৪. ক্যালসিয়াম পরমাণুর ১৯তম ইলেকট্রনটি 3d অরবিটালে না গিয়ে 4s অরবিটালে গমন করে কেন? ব্যাখ্যা করো।

[মা(অ). বো. ২৬; চ. বো. ২১]

উত্তর: ক্যালসিয়াম Ca(20)-এর ক্ষেত্রে 4s অরবিটালের শক্তি (n+l = 4+0 = 4), 3d অরবিটালের শক্তি (n+l = 3+2 = 5) অপেক্ষা কম। কম শক্তির অরবিটাল আগে পূর্ণ হওয়ার আউফবাউ নিয়ম মেনে 19তম ও 20তম ইলেকট্রন দুটি 3d-তে না গিয়ে 4s-এ যায়।

১৫. হুন্ডের নীতি ইলেকট্রন বিন্যাসসহ ব্যাখ্যা করো।

[রা. বো. ২২]

উত্তর: হুন্ডের নীতি অনুযায়ী, সমশক্তিসম্পন্ন অরবিটালে ইলেকট্রনগুলো এমনভাবে প্রবেশ করে যেন তারা সর্বোচ্চ অযুগ্ম অবস্থায় থাকতে পারে এবং তাদের স্পিন একমুখী হয়। উদাহরণস্বরূপ, নাইট্রোজেন N(7)-এর ইলেকট্রন বিন্যাস: 1s² 2s² 2pₓ¹ 2pᵧ¹ 2pz¹। এখানে 2p উপস্তরের 3টি অরবিটালে 3টি ইলেকট্রন একমুখী স্পিনে অযুগ্ম অবস্থায় থাকে।

১৬. N-এর ইলেকট্রন বিন্যাসের ক্ষেত্রে হুন্ডের বহুত্ববিধি বিবেচ্য কেন?

[সকল(অ) বো. ২৬]

উত্তর: নাইট্রোজেনের 2p উপস্তরে 3টি সমশক্তিসম্পন্ন অরবিটালে 3টি ইলেকট্রন প্রবেশ করায় হুন্ডের বহুত্ববিধি অনুসারে প্রতিটি অরবিটালে একটি করে ইলেকট্রন সমস্পিনে প্রবেশ করে, যা পরমাণুর সর্বোচ্চ বিনিময় শক্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করে।

১৭. হুন্ডের নীতি অনুসারে ফসফরাসের ইলেকট্রন বিন্যাস ব্যাখ্যা করো।

[ঢা. বো. ১৯]

উত্তর: ফসফরাস P(15)-এর স্বাভাবিক বিন্যাস: 1s² 2s² 2p⁶ 3s² 3p³। হুন্ডের নীতি অনুসারে, 3p উপশক্তিস্তরের 3টি সমশক্তিসম্পন্ন অরবিটালে ইলেকট্রন অযুগ্মভাবে একমুখী স্পিনে প্রবেশ করবে: P(15): 1s² 2s² 2p⁶ 3s² 3pₓ¹ 3pᵧ¹ 3p_z¹

১৮. Fe²⁺ এবং Fe³⁺ আয়নদ্বয়ের মধ্যে কোনটি অধিক স্থায়ী? ব্যাখ্যা করো।

[মা(অ). বো. ২৬; ঢা. বো. ২১]

উত্তর: Fe²⁺ ও Fe³⁺ এর ইলেকট্রন বিন্যাস:

  • Fe²⁺ (24 e⁻): 1s² 2s² 2p⁶ 3s² 3p⁶ 3d⁶
  • Fe³⁺ (23 e⁻): 1s² 2s² 2p⁶ 3s² 3p⁶ 3d⁵ Fe³⁺ আয়নের 3d অরবিটালটি সুষমভাবে অর্ধপূর্ণ (3d⁵) হওয়ায় এর বিনিময় শক্তি ও স্থিতিশীলতা বেশি। তাই Fe³⁺ আয়ন Fe²⁺ অপেক্ষা অধিক স্থায়ী।
১৯. Cu এর সাধারণ ইলেকট্রন বিন্যাস ব্যতিক্রম দেখায় কেন?

[কু. বো. ১৯; রা. বো., কু. বো., চ. বো., ব. বো. ১৮]

উত্তর: কপারের সাধারণ নিয়মানুযায়ী বিন্যাস হওয়া উচিত: Cu(29): 1s² 2s² 2p⁶ 3s² 3p⁶ 3d⁹ 4s²। কিন্তু পূর্ণ (d¹⁰) বা অর্ধপূর্ণ (d⁵) অরবিটাল অধিক সুষম ও স্থায়ী। তাই স্থায়িত্ব অর্জনের জন্য 4s থেকে 1টি ইলেকট্রন 3d-তে স্থানান্তরিত হয়ে কপার সঠিক বিন্যাস অর্জন করে: Cu(29): 1s² 2s² 2p⁶ 3s² 3p⁶ 3d¹⁰ 4s¹।

২০. Cr (24)-এর ইলেকট্রন বিন্যাস সাধারণ নিয়মের ব্যতিক্রম কেন?

[কু. বো. ২৫; য. বো. ২৩; ম. বো. ২২; ম. বো., কু. বো. ২১; চ. বো., সি. বো. ১৫]

উত্তর: ক্রোমিয়ামের প্রত্যাশিত বিন্যাস: Cr(24): [Ar] 3d⁴ 4s²। তবে 3d অরবিটালটি অর্ধপূর্ণ (3d⁵) হলে অতিরিক্ত স্থিতিশীলতা লাভ করে। তাই 4s অরবিটাল থেকে 1টি ইলেকট্রন 3d অরবিটালে গিয়ে অধিক সুষম অর্ধপূর্ণ বিন্যাস গঠন করে: Cr(24): 1s² 2s² 2p⁶ 3s² 3p⁶ 3d⁵ 4s¹।

📌 ৩. তড়িৎ চৌম্বকীয় বর্ণালী

২১. 675 nm তরঙ্গদৈর্ঘ্য বিশিষ্ট বর্ণালীর শক্তি নির্ণয় করো।

[ব. বো. ১৭]

উত্তর: আমরা জানি, শক্তি E = hc / λ এখানে,

  • λ = 675 nm = 675 × 10⁻⁹ m
  • h = 6.626 × 10⁻³⁴ J·s
  • c = 3 × 10⁸ m/s ∴ E = (6.626 × 10⁻³⁴ × 3 × 10⁸) / (675 × 10⁻⁹) = 2.944 × 10⁻¹⁹ Joule

📌 ৪. বোর পরমাণু মডেল ও হাইড্রোজেন বর্ণালী

২২. He²⁺ এর ক্ষেত্রে বোর তত্ত্ব প্রযোজ্য— ব্যাখ্যা করো।

[চ. বো. ১৭]

উত্তর: বোর পরমাণু মডেল কেবল এক-ইলেকট্রন বিশিষ্ট পরমাণু বা আয়নের (যেমন: H, He⁺, Li²⁺) বর্ণালী ব্যাখ্যা করতে পারে। He²⁺ আয়নে কোনো ইলেকট্রন নেই (2 − 2 = 0)। ইলেকট্রনহীন আয়নের ক্ষেত্রে বোর তত্ত্ব বা বর্ণালী উৎপন্ন হওয়া সম্ভব নয়। (নোট: কেবল এক-ইলেকট্রন বিশিষ্ট He⁺ এর ক্ষেত্রে বোর তত্ত্ব প্রযোজ্য)।

২৩. একটি ইলেকট্রন থাকা সত্ত্বেও হাইড্রোজেনের পারমাণবিক বর্ণালীতে অনেক রেখা দেখা যায় কেন?

[রা. বো. ১৬]

উত্তর: হাইড্রোজেন পরমাণুতে 1টি মাত্র ইলেকট্রন থাকলেও নমুনায় অসংখ্য হাইড্রোজেন পরমাণু থাকে। শক্তি শোষণের পর ইলেকট্রনটি উচ্চ শক্তিস্তরে লাফ দেয় এবং বিকিরণ করে বিভিন্ন নিম্ন শক্তিস্তরে ফিরে আসে (n = 1, 2, 3…)। ফলে লাইম্যান, বামার, প্যাশেন প্রভৃতি সিরিজের অসংখ্য রেখা বর্ণালীতে সৃষ্টি হয়।

২৪. হাইড্রোজেন বর্ণালী কীভাবে সৃষ্টি হয়? ব্যাখ্যা করো।

[ঢা. বো. ২৫; ব. বো. ২৩]

উত্তর: গ্রাউন্ড স্টেটে থাকা হাইড্রোজেন পরমাণু বাইরে থেকে শক্তি শোষণ করে ইলেকট্রন উচ্চ শক্তির কক্ষে স্থানান্তরিত হয়। উচ্চ শক্তিস্তরে ইলেকট্রন অস্থির থাকে এবং 10⁻⁸ সেকেন্ডের মধ্যে বিকিরণ নিঃসরণ করে পুনরায় নিম্ন শক্তিস্তরে ফিরে আসে। বিকীর্ণ এই আলোক তরঙ্গ বর্ণালী রেখা আকারে দৃশ্যমান হয়।

📌 ৫. UV ও IR রশ্মির ব্যবহার

২৫. জাল পাসপোর্ট বা টাকা শনাক্তকরণে UV রশ্মি ব্যবহার করা হয় কেন?

[সকল বো. ২৬; কু. বো. ১৯; ব. বো. ১৭; ঢা. বো. ১৬ / দি. বো., চ. বো., য. বো. ২৫; দি. বো., সি. বো. ২৩; য. বো. ২২]

উত্তর: আসল নোট বা পাসপোর্টে প্রতিপ্রভ বা ফ্লুরোসেন্ট রাসায়নিক ফ্লুরোফোরের অদৃশ্য জলছাপ থাকে। যখন অতিবেগুনি (UV) রশ্মি ফেলা হয়, তখন ফ্লুরোফোরগুলো UV শোষণ করে দৃশ্যমান রঙিন আলো বিকিরণ করে। নকল টাকা বা পাসপোর্টে এই ফ্লুরোফোর না থাকায় রঙ দেখায় না।

২৬. প্রতিপ্রভা / অনুপ্রভা কীভাবে সৃষ্টি হয়? ব্যাখ্যা করো।

[ঢা. বো. ১৫ / য. বো. ১৭]

উত্তর:

  • প্রতিপ্রভা (Fluorescence): অণু কর্তৃক উচ্চশক্তির বিকিরণ শোষণের সাথে সাথেই (10⁻⁸ s এর মধ্যে) নিম্নশক্তির দৃশ্যমান আলো বিকিরণ করা।
  • অনুপ্রভা (Phosphorescence): আলো উৎস সরিয়ে নেওয়ার পরও দীর্ঘ সময় ধরে ধীরে ধীরে আলো বিকিরণ করাকে অনুপ্রভা বলে।
২৭. চিকিৎসা ক্ষেত্রে IR রশ্মির ব্যবহার লেখ।

[দি. বো. ২৩; সি. বো. ২২; সি. বো. ১৯]

উত্তর: চিকিৎসা ক্ষেত্রে ইনফ্রারেড (IR) রশ্মি ব্যবহার করা হয়:

  1. FIR Therapy: পেশীর ব্যথা উপশম ও রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধিতে।
  2. Thermal Imaging: টিউমার ও প্রদাহজনিত স্থান নির্ণয়ে।
২৮. বৈশ্বিক উষ্ণায়নের সাথে IR রশ্মি কীভাবে সম্পর্কিত?

উত্তর: সূর্য থেকে আগত অবলোহিত (IR) বিকিরণ ভূপৃষ্ঠ কর্তৃক শোষিত হয়ে তাপ শক্তি হিসেবে বিকীর্ণ হয়। বায়ুমণ্ডলের গ্রিনহাউস গ্যাসসমূহ (CO₂, CH₄, H₂O) এই IR রশ্মি শোষণ করে বায়ুমণ্ডলে তাপ ধরে রাখে, ফলে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ঘটে।

📌 ৬. গুণগত রাসায়নিক বিশ্লেষণ (সিক্ত ও শিখা পরীক্ষা)

২৯. কোনো দ্রবণে Na⁺ আয়নের উপস্থিতি কীভাবে শনাক্ত করবে?

[রা. বো., সি. বো. ২১]

উত্তর: নমুনায় পটাশিয়াম পাইরোঅ্যান্টিমোনেট (K₂H₂Sb₂O₇) দ্রবণ যোগ করলে সোডিয়াম পাইরোঅ্যান্টিমোনেটের সাদা দানাদার অধঃক্ষেপ পড়ে: 2Na⁺ + K₂H₂Sb₂O₇ → Na₂H₂Sb₂O₇↓ (সাদা) + 2K⁺

৩০. দ্রবণে Al³⁺ আয়ন তুমি কীভাবে শনাক্ত করবে?

[দি. বো. ১৭; কু. বো. ১৬]

উত্তর: দ্রবণটিতে অল্প পরিমাণ NaOH যোগ করলে অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রোক্সাইডের জেলির ন্যায় সাদা অধঃক্ষেপ পড়ে, যা অতিরিক্ত NaOH-এ দ্রবীভূত হয়: Al³⁺ + 3OH⁻ → Al(OH)₃↓ (সাদা)

৩১. শিখা পরীক্ষায় গাঢ় HCl এসিড ব্যবহার করা হয় কেন?

[সকল বো. ২৬; ঢা. বো., ব. বো. ১৯; ঢা. বো., কু. বো., সি. বো. ১৭; চ. বো. ১৬; ঢা. বো., চ. বো. ১৫]

উত্তর: ধাতুসমূহের নাইট্রেট বা কার্বনেট লবণ উদ্বায়ী নয়। শিখা পরীক্ষায় গাঢ় HCl ব্যবহার করলে ধাতব লবণগুলো সহজে উদ্বায়ী ধাতব ক্লোরাইডে রূপান্তর হয়। ধাতব ক্লোরাইডগুলো বাংসেন শিখার উত্তাপে সহজেই বাষ্পীভূত হয়ে চরিত্রগত রঙ দেখায়।

৩২. দ্রবণে NH₄⁺ আয়নকে কীভাবে শনাক্ত করা যায়?

[ব. বো. ১৬]

উত্তর: দ্রবণে নেসলার বিকারক (K₂[HgI₄] + KOH) যোগ করলে বাদামী বর্ণের মারকিউরিক অ্যামিডো আয়োডাইডের অধঃক্ষেপ সৃষ্টি হয়, যা NH₄⁺ আয়ন নিশ্চিত করে।

৩৩. দ্রবণে Fe³⁺ আয়ন তুমি কীভাবে শনাক্ত করবে?

[য. বো. ১৬]

উত্তর: দ্রবণে পটাশিয়াম থায়োসায়ানেট (KSCN) দ্রবণ যোগ করলে ব্লাড রেড (রক্তের ন্যায় গাঢ় লাল) বর্ণের ফেরিক থায়োসায়ানেট অবিকল দ্রবণ তৈরি হয়: Fe³⁺ + 3SCN⁻ → [Fe(SCN)]²⁺ (রক্ত লাল)

৩৪. দ্রবণে SO₄²⁻ আয়ন কীভাবে শনাক্ত করবে? বিক্রিয়া লেখ।

[সকল (অ)বো. ২৬; ঢা. বো. ২৫; ব. বো. ২১; সি. বো. ১৭]

উত্তর: দ্রবণে বেরিয়াম ক্লোরাইড (BaCl₂) দ্রবণ যোগ করলে বেরিয়াম সালফেটের ভারী সাদা অধঃক্ষেপ পড়ে, যা লঘু HCl-এ অদ্রবণীয়: SO₄²⁻ + BaCl₂ → BaSO₄↓ (সাদা) + 2Cl⁻

📌 ৭. দ্রাব্যতা, দ্রাব্যতা গুণফল ও সম-আয়ন প্রভাব

৩৫. কোনো লবণের “দ্রাব্যতা 30” কথাটির অর্থ কী?

[য. বো. ২১]

উত্তর: নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় 100 গ্রাম দ্রাবকে সর্বোচ্চ 30 গ্রাম লবণ দ্রবীভূত হয়ে সম্পৃক্ত দ্রবণ তৈরি করতে পারে।

৩৬. 25°C তাপমাত্রায় NaCl এর দ্রাব্যতা 36— ব্যাখ্যা করো।

[ম. বো. ২১; ঢা. বো. ১৯]

উত্তর: 25°C তাপমাত্রায় 100 গ্রাম পানিতে সর্বোচ্চ 36 গ্রাম NaCl দ্রবীভূত হয়ে সম্পৃক্ত দ্রবণ তৈরি করে।

৩৭. CaCO₃ এর দ্রাব্যতা গুণফল 8.7 × 10⁻⁹ বলতে কী বোঝ?

[রা. বো. ২১; দি. বো. ১৬]

উত্তর: নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় CaCO₃-এর সম্পৃক্ত জলীয় দ্রবণে এর আয়নসমূহের মোলার ঘনমাত্রার গুণফল সর্বোচ্চ 8.7 × 10⁻⁹ mol²·L⁻² হতে পারে।

৩৮. দ্রাব্যতা গুণফল বলতে কী বোঝ?

[সকল (অ)বো. ২৬; ঢা. বো. ২১; দি. বো. ১৭]

উত্তর: নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় কোনো স্বল্প দ্রবণীয় লবণের সম্পৃক্ত দ্রবণে উৎপন্ন আয়নসমূহের মোলার ঘনমাত্রার উপযুক্ত ঘাতসহ গুণফলকে দ্রাব্যতা গুণফল (Kₛₚ) বলে।

৩৯. 25°C তাপমাত্রায় Zn(OH)₂ এর দ্রাব্যতা গুণফল 1 × 10⁻¹৭ বলতে কী বোঝায়?

[সি. বো. ১৯]

উত্তর: 25°C তাপমাত্রায় Zn(OH)₂ এর সম্পৃক্ত দ্রবণে [Zn²⁺][OH⁻]² = 1 × 10⁻¹⁷ mol³·L⁻³।

৪০. Al(OH)₃ এর দ্রাব্যতা গুণফল 3.7 × 10⁻¹⁵— কথাটির অর্থ ব্যাখ্যা করো।

[য. বো. ২১]

উত্তর: নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় Al(OH)₃ এর সম্পৃক্ত দ্রবণে এর বিয়োজিত আয়নগুলোর ঘনমাত্রার গুণফল [Al³⁺][OH⁻]³ = 3.7 × 10⁻¹⁵ mol⁴·L⁻⁴।

৪১. কক্ষতাপমাত্রায় BaSO₄ এর দ্রাব্যতা গুণফল 1.1 × 10⁻¹⁰ বলতে কী বোঝায়?

[রা. বো. ১৭]

উত্তর: কক্ষতাপমাত্রায় BaSO₄ এর সম্পৃক্ত দ্রবণে বেরিয়াম ও সালফেট আয়নের মোলার ঘনমাত্রার গুণফল [Ba²⁺][SO₄²⁻] = 1.1 × 10⁻¹⁰ mol²·L⁻²।

৪২. 25°C তাপমাত্রায় M(OH)₃ এর দ্রাব্যতা গুণফল 2.5 × 10⁻³⁹ বলতে কী বোঝ?

[সি. বো. ১৬]

উত্তর: 25°C এ M(OH)₃ এর সম্পৃক্ত দ্রবণে আয়নসমূহের ঘনমাত্রার গুণফল [M³⁺][OH⁻]³ = 2.5 × 10⁻³⁹ mol⁴·L⁻⁴।

৪৩. দ্রাব্যতার উপর তাপমাত্রার প্রভাব ব্যাখ্যা করো।

[য. বো. ২২; রা. বো. ১৭]

উত্তর: তাপউৎপাদী দ্রবণ প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে তাপমাত্রা বাড়ালে দ্রাব্যতা হ্রাস পায় (যেমন: Ca(OH)₂)। তাপহারী দ্রবণ প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে তাপমাত্রা বাড়ালে দ্রাব্যতা বৃদ্ধি পায় (যেমন: KNO₃)।

৪৪. তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে দ্রাব্যতা গুণফল বৃদ্ধি পায় কেন?

[ম. বো. ২১]

উত্তর: তাপমাত্রা বাড়ালে স্বল্প দ্রবণীয় লবণের দ্রাব্যতা (S) বৃদ্ধি পায়। ফলে দ্রবণে আয়নসমূহের ঘনমাত্রা বাড়ে, যার দরুন দ্রাব্যতা গুণফল (Kₛₚ) বৃদ্ধি পায়।

৪৫. তাপমাত্রার সাথে পানির আয়নিক গুণফল পরিবর্তনশীল কেন?

[ঢা. বো. ২২; ঢা. বো. ১৯]

উত্তর: পানির স্বতঃস্ফূর্ত বিয়োজন একটি তাপহারী প্রক্রিয়া (H₂O ⇌ H⁺ + OH⁻)। লা শাতেলিয়ারের নীতি অনুযায়ী তাপমাত্রা বাড়ালে বিয়োজন বাড়ে, ফলে H⁺ ও OH⁻ আয়নের ঘনমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় পানির আয়নিক গুণফল (K_w) বৃদ্ধি পায়।

৪৬. সমআয়ন প্রভাবের ফলে দ্রাব্যতা হ্রাস পায় কেন?

[রা. বো. ২২; রা. বো. ১৯; সি. বো. ১৭]

উত্তর: কোনো স্বল্প দ্রবণীয় লবণের দ্রবণে একই সম-আয়ন যুক্ত তীব্র তড়িৎ-বিশ্লেষ্য যোগ করলে দ্রবণে সম-আয়নের ঘনমাত্রা বাড়ে। লা শাতেলিয়ারের নীতি অনুযায়ী দ্রাব্যতা সাম্যাবস্থা বামে সরে যায় এবং লবণ অধঃক্ষিপ্ত হয়, ফলে দ্রাব্যতা হ্রাস পায়।

৪৭. “কেলাসযুক্ত পানির দ্রাব্যতা, তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে সাথে এক পর্যায়ে বৃদ্ধি না পেয়ে হ্রাস পায়”— ব্যাখ্যা করো।

[রা. বো. ১৯]

উত্তর: গ্লোবার লবণ (Na₂SO₄·10H₂O) 32.4°C পর্যন্ত তাপহারী প্রক্রিয়ায় কেলাস পানি অপসারণ করে নির্জল Na₂SO₄-এ পরিণত হয়, তাই দ্রাব্যতা বাড়ে। 32.4°C-এর উপরে নির্জল Na₂SO₄ দ্রবীভূত হওয়া তাপউৎপাদী হওয়ায় তাপমাত্রা বাড়ালে দ্রাব্যতা হ্রাস পায়।

৪৮. 25°C তাপমাত্রায় KNO₃ এর দ্রাব্যতা 31.6 বলতে কী বোঝ?

[কু. বো. ১৭]

উত্তর: 25°C তাপমাত্রায় 100 গ্রাম পানিতে সর্বোচ্চ 31.6 গ্রাম KNO₃ দ্রবীভূত হয়ে সম্পৃক্ত দ্রবণ তৈরি করে।

৪৯. ধাতব ক্লোরাইডের দ্রাব্যতা HCl দ্রবণে হ্রাস পায় কেন? ব্যাখ্যা কর।

[মা. বো. ২৬]

উত্তর: ধাতব ক্লোরাইড (যেমন— NaCl, AgCl) এবং HCl উভয়ই জলীয় দ্রবণে বিয়োজিত হয়ে সম-আয়ন রূপে ক্লোরাইড আয়ন (Cl⁻) উৎপন্ন করে। ধাতব ক্লোরাইডের দ্রবণে তীব্র তড়িৎ-বিশ্লেষ্য HCl যোগ করলে দ্রবণে সম-আয়ন (Cl⁻)-এর ঘনমাত্রা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়। লা শাতেলিয়ারের নীতি অনুসারে, এই সম-আয়ন প্রভাবের কারণে ধাতব ক্লোরাইডের বিয়োজন সাম্যাবস্থা বামদিকে সরে যায় এবং কিছু লবণ অধঃক্ষিপ্ত হয়। ফলে HCl দ্রবণে ধাতব ক্লোরাইডের দ্রাব্যতা হ্রাস পায়।

📌 ৮. কেলাসন, পাতন ও ক্রোমাটোগ্রাফি

৫০. বিশুদ্ধ NaCl কেলাসনে HCl ব্যবহার করা হয় কেন?

[দি. বো. ২৫; ঢা. বো. ১৬]

উত্তর: অবিশুদ্ধ NaCl দ্রবণে শুষ্ক HCl গ্যাস চালনা করলে সম-আয়ন প্রভাবের কারণে Cl⁻ আয়নের ঘনমাত্রা ব্যাপকভাবে বাড়ে। ফলে NaCl-এর আয়নিক গুণফল দ্রাব্যতা গুণফলকে অতিক্রম করে এবং বিশুদ্ধ NaCl নিচে অধঃক্ষিপ্ত হয়।

৫১. দ্রবণে অবিশুদ্ধ NaCl বিশুদ্ধকরণে HCl ব্যবহার করা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।

[মাদ্রাসা বোর্ড ১৮]

উত্তর: সমআয়ন প্রভাব প্রয়োগের মাধ্যমে দ্রবণ থেকে অতি বিশুদ্ধ NaCl কেলাস পৃথক করার জন্য HCl চালনা করা হয়, যাতে ভেজাল হিসেবে থাকা MgCl₂ বা CaCl₂ দ্রবণে রয়ে যায়।

৫২. ইথার পাতনের সময় সম্পূর্ণরূপে অনার্দ্র করা হয় না কেন?

[য. বো. ১৭]

উত্তর: ইথার বায়ুর অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে বিস্ফোরক পারঅক্সাইড গঠন করে। পাতনের সময় পাত্র সম্পূর্ণ শুষ্ক বা অনার্দ্র হয়ে গেলে অবশিষ্ট বিস্ফোরক পারঅক্সাইড উত্তাপে তীব্র বিস্ফোরণ ঘটাতে পারে।

৫৩. ক্রোমাটোগ্রাফির মূলনীতি লেখ।

[দি. বো. ১৬]

উত্তর: ক্রোমাটোগ্রাফি দুটি অমিশ্রণীয় দশা— স্থির দশা (Stationary Phase) ও চলমান দশা (Mobile Phase)-র প্রতি উপাদানগুলোর বণ্টন গুণাঙ্ক বা শোষণ ক্ষমতার পার্থক্যের ওপর ভিত্তি করে পৃথকীকরণের নীতিতে কাজ করে।

৫৪. R𝒇 এর মান ১ এর চেয়ে কম কেন?

[ব. বো. ১৯; কু., চ., ব. বো. ১৮; রা. বো. ১৭; সি. বো. ১৫]

উত্তর: R𝒇 = (নমুনা উপাদান কর্তৃক অতিক্রান্ত দূরত্ব) ÷ (দ্রাবক কর্তৃক অতিক্রান্ত দূরত্ব)। নমুনা উপাদান কখনোই দ্রাবক অপেক্ষা বেশি বা সমান দূরত্ব অতিক্রম করতে পারে না। তাই লব ছোট ও হর বড় হওয়ায় R𝒇-এর মান সর্বদাই 1 অপেক্ষা কম হয়।

৫৫. R𝒇 এর কোন একক থাকে না— কেন?

[য. বো. ১৯]

উত্তর: R𝒇 হলো দুটি একই জাতীয় রাশি (দূরত্ব)-এর অনুপাত। দুটি সমজাতীয় রাশির অনুপাত হওয়ায় এর কোনো একক থাকে না।

৫৬. কাগজ ক্রোমাটোগ্রাফিতে R𝒇 এর মান দ্রাবক দ্বারা প্রভাবিত হয় কেন?

[সকল(অ) বো. ২৬]

উত্তর: কাগজ ক্রোমাটোগ্রাফিতে ব্যবহৃত দ্রাবক (চলমান দশা বা Mobile Phase)-এর প্রকৃতির ওপর নমুনা উপাদানের বণ্টন গুণাঙ্ক (Partition coefficient) সরাসরি নির্ভর করে। ভিন্ন ভিন্ন দ্রাবকের ক্ষেত্রে উপাদানগুলোর দ্রাব্যতা ও স্থির দশার (কাগজে থাকা জলীয় কলার) সাথে তাদের আকর্ষণের মাত্রা ভিন্ন হয়। ফলে দ্রাবক পরিবর্তিত হলে উপাদানের গতিশীলতাও পরিবর্তিত হয়, যার কারণে R𝒇-এর মানও দ্রাবকভেদে ভিন্ন হয়।

💡 পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য qChem+ টিপস:

  • অনুধাবনমূলক প্রশ্নসমূহের উত্তর স্পষ্ট ও সঠিক রাসায়নিক যুক্তিসহ ২-৩ বাক্যে লিখবে।
  • গাণিতিক একক, বিক্রিয়া ও ইলেকট্রন বিন্যাসের চিহ্ন সতর্কতার সাথে উল্লেখ করবে।

Looking for the exact English version of this post?

🚀 HSC Chemistry 1st Paper | Chapter 2 : Qualitative Chemistry – Previous Board Exam Comprehension Questions & Answers

Share Now

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Similar Posts

Qualitative Chemistry Comprehension Questions bank for HSC Chemistry 1st Paper Chapter 2. Practice previous board exam questions with qChem+!
Qualitative Chemistry Comprehension Question Answer bank for HSC Chemistry 1st Paper Chapter 2. Study previous board exam Q&A and solutions...
গুণগত রসায়ন অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর (এইচএসসি রসায়ন ১ম পত্র ২য় অধ্যায়)। বিগত বছরের সেরা বোর্ড প্রশ্ন ব্যাংক ও নির্ভুল...
Master all Qualitative Chemistry Knowledge-based Questions and Answers (1-mark) with accurate solutions for HSC Chemistry 1st Paper Chapter 2 (Qualitative...
Master all Qualitative Chemistry Knowledge-based Questions and Answers (1-mark) with accurate solutions for HSC Chemistry 1st Paper Chapter 2 (Qualitative...
HSC রসায়ন ১ম পত্রের ২য় অধ্যায় গুণগত রসায়ন জ্ঞানমূলক প্রশ্ন সমূহ একসাথে পান qChem+-এ। এইচএসসি ও বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি...
HSC রসায়ন ১ম পত্রের ২য় অধ্যায় গুণগত রসায়ন জ্ঞানমূলক প্রশ্নের উত্তর একসাথে পান qChem+-এ। এইচএসসি ও বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি...
Learn What is Stereoisomerism? with this concise 1 Mark Q&A by qChem+. Understand compounds with the same molecular formula and...
Learn exactly what is mole fraction in this 1 Mark Q&A from qChem+. We break down the definition, formula, and...
Learn what is partial pressure with this concise 1 Mark Q&A by qChem+. Understand Dalton’s Law of Partial Pressures and...